ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮:৪১, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:৪১, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং ধীরে ধীরে ‘নীরব বিপ্লব’ সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এই সেবায় আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমানত বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নিয়ে প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, শহর এলাকায় আমানত বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। আর গ্রাম এলাকায় বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় আমানত ছিল ৪২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সেপ্টেম্বরে শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় সবচেয়ে বেশি আমানত পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ সেপ্টেম্বরে শেষে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির এজেন্ট সেবার অধীন আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এরপর ব্যাংক এশিয়ার ৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ও ব্র্যাক ব্যাংকের ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় সবচেয়ে বেশি আমানত হিসাব রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। সব মিলিয়ে ব্যাংকটিতে মোট হিসাব সংখ্যা ৭৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২১। আর ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৭টি হিসাব সংখ্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ব্যাংক এশিয়া। আর ইসলামী ব্যাংকের হিসাবের সংখ্যা ৫৬ লাখ ১০ হাজার ১৪৫টি।
বর্তমানে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে ২০ হাজার ৪৮৮টি। এর মধ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৫ হাজার ৬২০টি, ব্যাংক এশিয়ার ৫ হাজার ৩৫টি এবং ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের পরিমাণ ২ হাজার ৭৯২টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাব সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৫টি। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর শেষে এই অ্যাকাউন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭ হাজার ১৬৪টি। অর্থাৎ ৯ মাসের অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৯টি।
প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংখ্যার ৮৭ শতাংশ গ্রাম এলাকার এবং ৫০ শতাংশ হিসাবধারী নারী। এ ছাড়া এই সেবার মাধ্যমে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেওয়া হয়। এতে কিছু ব্যাংক সফলতাও পেয়েছে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন