ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২:২৭, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:২৭, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে আয়ের তথ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার গরমিল রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কোম্পানিটির স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) অর্থ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে নিরীক্ষক। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ মতামত দিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হক ভট্টাচার্য দাস অ্যান্ড কোম্পানি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস।
নিরীক্ষক তার মতামতে জানিয়েছে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আর্থিক প্রতিবেদনে আয় দেখানো হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তবে ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী কোম্পানিটি আয় দেখিয়েছে ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত আয় ও ভ্যাট রিটার্নের আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকার গরমিল রয়েছে।
নিরীক্ষক আরও জানিয়েছে, মেঘনা পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা এফডিআর হিসেবে বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১৬৯ কোটি ১ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২১১ কোটি ৭৩ লাখ, পদ্মা ব্যাংকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ও ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা রয়েছে। এ ব্যাংকগুলো বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে।
এসব ব্যাংকে বিনিয়োগের বিপরীতে ৬১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সুদ আয় হিসেবে দেখায়নি কোম্পানিটি, যা কোম্পানিটির উচ্চ ঋণ ঝুঁকি নির্দেশ করে। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ নগদায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানো হলেও তারল্য সংকটের কারণে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১২ টাকা ৭৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯২ টাকা ৭৯ পয়সায়।
এদিকে, ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন