ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯:১৬, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
পুঁজিবাজারে গতি ফিরিয়ে আনতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বরাদ্দ লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের পাবলিক অফার সংক্রান্ত বিধিমালা- ২০২৫ নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।
এতে আইপিওর সংশোধিত বিধির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, উদ্দেশ্য এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির।
এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবসহ (আইপিও) ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ, আবেদন ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা জোরদারের বিষয়ে নানা আলোচনা তুলে ধরেন সংস্থার পরিচালক মো. আবুল কালাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মো. আবুল কালাম জানান, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার অফার, লাভ এবং পূর্ববর্তী ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত আইপিও বিধি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। একই সঙ্গে আইপিও পরবর্তী পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অফার করতে হবে। আইপিও সম্পন্ন হওয়ার পর কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন শর্ত অনুযায়ী, আইপিও পরবর্তী পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার সর্বদা উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ধারণ করতে হবে। এতে করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় উদ্যোক্তাদের দায়বদ্ধতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া, আবেদনের সময় কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে লাভজনক কার্যক্রমের রেকর্ড থাকতে হবে এবং কোনো লোকসান থাকা যাবে না। তবে গ্রিনফিল্ড ও নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল রাখার সুযোগ থাকবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পূর্বে মূলধন ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ যথাযথভাবে ব্যবহার করা থাকতে হবে। পাশাপাশি পাবলিক অফারের আবেদনের তারিখের আগের দুই বছরের মধ্যে বোনাস শেয়ার ব্যতীত নগদ বা অন্য কোনো প্রতিদানের মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করা যাবে না। তবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রকল্প, রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অথবা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিলযোগ্য।
এ ছাড়া, পূর্ববর্তী কোনো ইস্যু থেকে প্রাপ্ত অর্থের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ব্যবহার সম্পন্ন থাকতে হবে বলেও শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং শেষে সব বিনিয়োগকারীকে অভিন্ন কাট-অফ মূল্যে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে বিডিং প্রক্রিয়ায় কার্টেল গঠন বা নীরব যোগসাজশ (ট্যাসিট কল্যুশন) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নতুন বিধিমালায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যুর ক্ষেত্রে ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং এই দুই পদ্ধতির আওতায় মূল্য নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও শেয়ার বরাদ্দ সংক্রান্ত নীতিমালা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান ইস্যু ম্যানেজারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে শেয়ারের অফার মূল্য নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে শেয়ার অভিহিত মূল্যে (পার ভ্যালু), ছাড়ে (ডিসকাউন্ট) অথবা অতিরিক্ত মূল্যে (প্রিমিয়াম) ইস্যু করা যাবে। অর্থাৎ, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানকে অভিহিত মূল্যেই শেয়ার ছাড়তে বাধ্য করা হবে না।
অন্যদিকে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রথমে রোড শোর মাধ্যমে ইঙ্গিতমূলক মূল্য (ইন্ডিকেটিভ প্রাইস) নির্ধারণ করা হবে এবং পরবর্তীতে বিডিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত কাট-অফ মূল্য নির্ধারিত হবে। উচ্চ প্রিমিয়ামে শেয়ার ইস্যু করতে আগ্রহী যোগ্য ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও আনতে পারবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, শেয়ারের মূল্যায়ন বা ইঙ্গিতমূলক মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যেকোনো উপযুক্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। তবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আপেক্ষিক (রিলেটিভ) ও পরম (অ্যাবসলুট) মূল্যায়ন পদ্ধতি এই দুই শ্রেণি থেকে ন্যূনতম চারটি পদ্ধতি (প্রতিটি শ্রেণি থেকে অন্তত দুটি) অনুসরণ করতে হবে।
একই সঙ্গে এই মূল্যায়ন কমপক্ষে ৪০ জন যোগ্য বিনিয়োগকারী (ইআই) দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন