ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১:১৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন রমজানে মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
পবিত্র রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলস্থ এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
সভায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে তারা মত দেন। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি বন্ধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে অযথা চাপ সৃষ্টি না করার অনুরোধও জানান। একই সঙ্গে বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম বলেন, মিল মালিকরা সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করলে বাজারে চিনির সংকট হবে না। সরকারি উদ্যোগে চিনি আমদানি বাড়ানো গেলে প্রতিযোগিতামূলক দামে চিনি বিক্রি করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা বলেন, শুধু খুচরা পর্যায়ে নয়, আমদানিকারক ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী পর্যায়েও বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানান, রমজানের অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবিলায় দেশে ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছুটির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে কাঁচাবাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, লেবু ছাড়া বর্তমানে অধিকাংশ শাক-সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে এবং রমজানেও এসব পণ্য ভোক্তাদের নাগালে থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সভার শুরুতে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান নিত্যপণ্যের চাহিদা, মজুদ ও বাজার পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
তবে বাজার বিশ্লেষক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া রমজানে জ্বালানি সংকট ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের কারণে বাজার তদারকিতে শিথিলতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক বলেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজার তদারকি যেন ব্যবসায়ীদের হয়রানির কারণ না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক, মহাসচিব, বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন