ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২:২৫, ৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৫, ৮ মার্চ ২০২৬
দেশের ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক হিসাব মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে আইএফআরএস-৯ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্টস’ বাস্তবায়নে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোতে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই রোডম্যাপের আওতায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি (ইসিএল) ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো মূলত নিয়মভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং পদ্ধতি অনুসরণ করছে। নতুন পদ্ধতিতে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন আরও বাস্তবসম্মত হবে।
রোডম্যাপটি তিনটি ধাপে বিভক্ত। রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের শুরুতেই ব্যাংকগুলোর জন্য আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংকসমূহে আইএফআরএস-৯ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্টস’ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ প্রস্তুত করে তা জারি করেছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ঘোষিত ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট এন্টিটি’ হিসেবে সব ব্যাংককে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারিত আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া ২০২০ সালের ২ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সব পাবলিক ইন্টারেস্ট এন্টিটিকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী কনসেপচুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক ফর ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশিকাটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণে ব্যাংকগুলোকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করা।
তবে এই বাস্তবায়ন নির্দেশিকায় আইএফআরএস-৯ এর সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে মূলত মানদণ্ডটির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এটি ব্যাংকগুলোর জন্য আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের ন্যূনতম নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, বাজেল কমিটি অন ব্যাংকিং সুপারভিশন ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি ও ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা অনুসরণের জন্যও ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে সব ব্যাংকে তহবিলভিত্তিক ও অ-তহবিলভিত্তিক ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা প্রয়োগ করতে হবে। আর বিনিয়োগ সিকিউরিটিজসহ আইএফআরএস-৯-এর আওতাধীন অন্যান্য আর্থিক যন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে।
প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে সিআইবি রিপোর্টিং বা অতিরিক্ত রিপোর্টিং টেমপ্লেটসহ অন্যান্য নির্দেশনাও জারি করবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও ব্যাখ্যা প্রদান করবে। এ সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য ব্যাংকগুলোকে একটি নির্ধারিত অফিসিয়াল ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১) (চ) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন