ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় বহুতল ভবন নির্মাণে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:৪৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬

৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় বহুতল ভবন নির্মাণে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের। ১৯৭৬ সালে কে জেড ইসলামের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রকল্প হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল শুধু নির্মাণকাজ শেষ করা নয়, বরং মান, অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্যতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সুনাম গড়ে তোলা। সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পরিচিত বহুতল ভবন ও অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের নাম।

আশির দশকেই মান ও কাজের ধারাবাহিকতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করে। নব্বইয়ের দশকে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।

দেশের পরিচিত স্থাপনায় নির্মাণের ছাপ

নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার মতিঝিলে ৩২ তলাবিশিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, একই এলাকার ২১ তলাবিশিষ্ট সেনাকল্যাণ ভবন এবং মহাখালীর ২০ তলাবিশিষ্ট ব্র্যাক সেন্টার। এ ছাড়া গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও কাজের পরিধি বিস্তৃত করেছে নির্মাণ। আবুধাবিতে প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত উল্লেখযোগ্য ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯ তলাবিশিষ্ট আল-সাকসাক ভবন, যা ১৯৯২ সালে হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া ১০ তলাবিশিষ্ট আল কাসমি এবং ১৯ তলাবিশিষ্ট আল মোবাররক ভবন ১৯৯৩ সালে হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রকল্প হস্তান্তর করেছে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল।

বহুতল ভবনের পাশাপাশি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতেও কাজ

আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে পরামর্শক সেবা এবং টার্নকি ইপিসি—প্রকৌশল, সংগ্রহ ও নির্মাণ—সেবাও দিয়ে থাকে তারা।

এ ছাড়া নতুন প্রকল্পগুলোতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকায় চলমান একাধিক প্রকল্প

বর্তমানে ঢাকায় কয়েকটি নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল।

তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে ৩০ তলাবিশিষ্ট ‘মিরাই বাই নির্মাণ’। প্রকল্পটির মোট আয়তন ৪ লাখ বর্গফুট। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে এটি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

আবাসিক প্রকল্পের মধ্যে গুলশান-২-এর ৯৬ নম্বর সড়কে রয়েছে ১৪ তলাবিশিষ্ট ‘সিরোক্কো বাই নির্মাণ’। এ ছাড়া হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট ‘লিলিয়া বাই নির্মাণ’ ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ধানমন্ডি, বসুন্ধরা ও স্বদেশ এলাকাতেও প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প চলমান রয়েছে।

নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির মূল অগ্রাধিকার অপরিবর্তিত রয়েছে। মান বজায় রাখা, প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং প্রতিটি প্রকল্পে যত্নশীল নির্মাণ নিশ্চিত করাকেই নিজেদের পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখে প্রতিষ্ঠানটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরও পড়ুন