ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

২৯ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৪ রমজান ১৪৪৭

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাংকগুলোতে হামলার আতঙ্ক, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক শাখা

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১:১০, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:১০, ১৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাংকগুলোতে হামলার আতঙ্ক, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক শাখা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এবার আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং খাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ব্যাংক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের বেশিরভাগ শাখা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং এইচএসবিসি কাতারে সব শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস-কে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি শাখা ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সব অফিস ও শাখা বন্ধ রাখা হবে। যদিও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ‘দেশটিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির’ কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

এ খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা ও রয়টার্স।

অন্যদিকে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটি ব্যাংক তাদের কর্মীদের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এবং দুবাইয়ের উদ মেথা এলাকার অফিস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-ও দুবাইয়ে তাদের অফিসগুলো থেকে ধীরে ধীরে কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া'-এর হুঁশিয়ারি। বুধবার (১১ মার্চ) তেহরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক 'ব্যাংক সেপাহ'-এ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ওই কমান্ডের একজন মুখপাত্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলার হুমকি দেন।

এর পরপরই ব্রিটিশ ব্যাংক এইচএসবিসি গ্রাহকদের উদ্দেশে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাতার-এ তাদের সব শাখা বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র দুবাই-এর ওপরও চাপ বাড়তে পারে। কারণ দুবাইয়ে বর্তমানে শত শত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এএ

 

মোমেন আমিন

আরও পড়ুন