ব্যাংকার ডেস্কঃ
প্রকাশ: ০৯:২৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:২৯, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা: যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ১০০ থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার সক্ষমতার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রফতানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)। বাংলাদেশি টাকায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা সফররত ইউকেইএফের একটি প্রতিনিধি দল সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউকেইএফের অর্থায়ন সুবিধার আওতায় পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ পাবেন যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতারা।
ইউকেইএফ সাধারণ গ্যারান্টি, ঋণ ও বীমাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য সরবরাহ করে। এসব সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ত প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়। সংস্থাটি ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ইউকেইএফের বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টির মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউকেইএফের প্রতিনিধি দলটি বুধবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসে। সফরকালে তারা সরকার, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানির প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।
সফরের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবে ইউকেইএফের প্রতিনিধি দল।
এসব আলোচনায় ইউকেইএফের অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়ন চাহিদা পূরণ, যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবার রফতানি বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে, তা গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ইউকেইএফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্য কাউন্সেলর মার্ক বিরেল, ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান রোহিণী আগরওয়াল।
মার্ক বিরেল বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কোথায় কাজে লাগানো যেতে পারে, তা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকার ডেস্কঃ