ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০:৪১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪২, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এ সময় সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। এর পরের স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কাতার।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। একই বছরে কাতারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭ হাজার ৪৭২ জন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া সিঙ্গাপুর ও কুয়েতে যথাক্রমে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং ৭২ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশিকে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বহুবিধ ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে পুরুষ ও নারী মিলে প্রায় ১১ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে মোট ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন।
আশরাফ হোসেন বলেন, নিরাপদ, দক্ষ এবং নিয়মিত অভিবাসন এখন জরুরি এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সে কারণেই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।
বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন- সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের মধ্যে ব্যবধান কমানো এবং অর্থপাচার রোধ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩২,৮১৬.৮৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সরকার দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য আরো নতুন গন্তব্য অনুসন্ধান করছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম ও পূর্ব ইউরোপ।
এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার নার্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
রেক্রুটিং এজেন্টরা জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যে বিদেশে কর্মসংস্থান কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে নতুন গন্তব্য চিহ্নিতকরণ এবং কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন