ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮:৩০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৮:৩০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
দেশে প্রথমবারের মতো ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব ব্যাংক থেকে তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জামানতবিহীন, সহজ শর্তে এবং তুলনামূলক কম সুদে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ দেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ছোট উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব এবং জামানত দিতে না পারার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ দেওয়া হলেও সুদ অনেক বেশি। তাই দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি উঠছিল। প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা হবে। প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এর ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শেয়ার ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক পরিশোধ করতে হবে। বাকি অংশ অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার দিতে পারবেন। এ নিয়ম মেনে ঋণগ্রহীতা বা আমানতকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হতে পারবেন। অনুমোদিত মূলধন ১০০ টাকা মূল্যমানের তিন কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হবে।
এ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় গঠিত একটি পৃথক বিভাগে। বিভাগটি একজন প্রধান নির্বাহী পরিচালিত করবেন। ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে থাকবে আট সদস্য। এর মধ্যে তিনজন পরিচালক হবে ঋণগ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারের মনোনীত। অন্য তিনজন মনোনয়ন করবেন অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার। এ ছয় পরিচালক একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। আর একজন থাকবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এক মেয়াদে পরিচালক তিন বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একজন পরিচালক সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ টানা দায়িত্বে থাকতে পারবেন। পরিচালনা বোর্ডের তিন-চতুর্থাংশ ভোটের মাধ্যমে কোনো পরিচালকের মনোনয়ন বাতিল করা যাবে। এমডির ভোটাধিকার এতে প্রয়োগ হবে না। ব্যাংক সময়-সময় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে। ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকগুলো সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ মোট বিনিয়োগের অতিরিক্ত হবে না।
ব্যাংকের কার্যাবলি ও উদ্যোক্তা সহায়তা
অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক জামানতসহ বা জামানত ছাড়া নগদ ও অন্যান্য মাধ্যমে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বিশেষভাবে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হবে। ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হবে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ। এ জন্য ব্যবসা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক মাশুলসহ বা ছাড়া কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। ঋণ নেওয়া হবে এমন প্রকল্পে, যা আয় সৃষ্টিতে কার্যকর। ঋণগ্রহীতারা থাকবে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সব ধরনের বীমা সুবিধার আওতায়। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, বিপণন, কারিগরি ও প্রশাসনিক পরামর্শও প্রদান করা হবে। নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
ব্যাংক ঋণগ্রহীতা বা অন্য যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করবে। স্থানীয় ও বিদেশি সহায়তা ও অনুদানও গ্রহণ করা যাবে, আইন অনুযায়ী। ঋণ নেওয়া যাবে ব্যাংকের সম্পদ বা অন্যান্য জামানত রেখে। ব্যাংক কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার কিনতে পারবে এবং সরকারি সিকিউরিটিতে তহবিল বিনিয়োগ করতে পারবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ব্যাংকের দাবির পূর্ণ বা আংশিক আদায় করতে ব্যাংক যে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। ব্যাংকের কাছে জামানত হিসেবে গচ্ছিত সম্পত্তির অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
এছাড়া ব্যাংক, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সরকারের গ্যারান্টিকৃত বিনিয়োগ ইন্সট্রুমেন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ তহবিল রাখবে। এতে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। ব্যাংক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করবে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন