ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০:৩২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:৩৩, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় ও সরকারি ইসলামী ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হলো।
রোববার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকটির অনুকূলে চূড়ান্ত লাইসেন্স ইস্যু করার সিদ্ধান্ত হয়।
শিগগিরই আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ, সুদের হার, বিস্তারিত স্কিম নির্ধারণ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে জমা দেয় সরকার।
দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’টি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় এটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড়ো মূলধনি ইসলামী ব্যাংক। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করবে। নতুন ব্যাংকটির মোট পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসছে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। যেখানে আরজিএসসি থেকে কোম্পানি নাম ছাড়পত্র, ব্যাংকের চলতি হিসাব খোলাসহ ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধিবিধান পূরণের দায়িত্ব পড়ে সরকারের ওপর।
অনুমোদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকছেন সাবেক সচিব আইয়ুব ভুঁইয়া।
জানা গেছে, আমানত বীমা তহবিলের আওতায় প্রত্যেক গ্রাহকের জমানো স্থিতি থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। গ্রাহক চাইলে ধাপে ধাপে টাকা তুলতে পারবেন। এতদিন যারা টাকা তুলতে পারেননি, তাদের জমা টাকার ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা হিসাব করা হবে।
এদিকে, পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসককে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কর্মীদের বেতন-ভাতা ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। নভেম্বর থেকেই যা কার্যকর হয়েছে। নভেম্বরের বেতন পরিশোধ হলেও পরের মাসে সমহারে কর্তন করে সমন্বয় করা হবে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন