ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১ মাঘ ১৪৩২, ১৬ শা'বান ১৪৪৭

৩৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের পথে বাংলাদেশ: গভর্নর

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১:৫৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

৩৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের পথে বাংলাদেশ: গভর্নর

বাংলাদেশ ৩৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।  তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে আশা করি। আর তা হবে আইএমএফের অর্থ সহায়তা ছাড়াই।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) আয়োজিত সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস : ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান।

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৮ থেকে ২০ বিলিয়নে ডলারে নেমে এসেছে। এর অর্থ ঋণের টাকা দিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী করে দেখানো হয়েছিলো অতীতে। আমরা আইএমএফের ঋণের অর্থ ছাড়াই শক্তিশালী রিজার্ভ গঠনের পথে রয়েছি।

তিনি বলেন, মানি মার্কেট এখন ভালো সময় অতিবাহিত করছে। ডিসেম্বরে আমানত ৬ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসের ১৮ দিনে রেমিট্যান্সে ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।

গভর্নর বলেন, ‘রফতানি খাত এ মুহূর্তে আমাদের একটি দুর্বল জায়গা। তবে সৌভাগ্যবশত বৈশ্বিক আমদানি মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় আমরা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছি। আমদানি ব্যয় ৫-৬ শতাংশ হয়তো বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতিও নাজুক ছিল। আমরা সেই কঠিন অবস্থাও পার করে এসেছি। বিপুল পরিমাণ বিদেশী দায় মিটিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে আমানত প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রত্যাশা ছিল ১৪ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধির উৎসের জন্য আমরা টাকা ছাপাইনি। এ অর্থ এসেছে মূলত ব্যালান্স অব পেমেন্টস উদ্বৃত্তের কারণে। নিট বৈদেশিক সম্পদ বৃদ্ধিই অর্থ সরবরাহ তৈরি করেছে। এ প্রবৃদ্ধি অবশ্যই সুদহার কমাতে সাহায্য করবে।

পিএমআই সূচকের বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমাদের রিয়েল টাইম ডাটার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই কাজটি সহজ করেছে পিএমআই। যদিও পিএমআই সূচকটি আমাদের দেশে নতুন। তাই আমি এটিকে স্বাগত জানাই এবং আমি এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হোস্ট করবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা ব্যবসায়ী সমাজকে একাধিক ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছি। যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পেরেছে, আমরা তাদের সবাইকে চোখ বন্ধ করে সহায়তা দিয়েছি। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেমস গোল্ডম্যান বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানি খাতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। পোশাক শিল্পে আমরা আরও বেশি বিনিয়োগ করব।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান। তিনি বলেন, পিএমআই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশেও পিএমআই অর্থনীতির সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে। এই সূচক সরকারকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, ইনডেক্স (সূচক) দিয়ে কোনোকিছুর বর্তমান অবস্থান জানা যায়। পিএমআইয়ে বাংলাদেশের অবস্থান যে কেউ জানতে পারে। এতে বিশ্ববাসী বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জেনে বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। সরকারি ডাটা সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে না। কিন্তু পিএমআইয়ের ডাটা সবার জন্য উম্মুক্ত; যা দেশের সক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট জানান দেয়।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন