ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭:৫৮, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৮, ২৮ জুন ২০২৬
নিরাপদ ও শরিয়াহভিত্তিক সরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য নতুন সুযোগ এসেছে। সরকার এই প্রথম ২৭৩ দিনমেয়াদি ‘স্বল্পমেয়াদি বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (বিজিআইএস)’ ছেড়েছে। এতে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রবাসী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতে পারবেন।
রোববার (২৮ জুন) এই প্রথম স্বল্পমেয়াদি এ সুকুকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। এত দিন বাংলাদেশে ইস্যু হওয়া সরকারি সুকুকের বেশির ভাগই ছিল ৫, ৭ কিংবা ১০ বছর মেয়াদি।
এই সুকুকের মাধ্যমে বাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা বার্ষিক ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এটি ইজারা সুকুক। মেয়াদ শেষে মূল অর্থের সঙ্গে এককালীন মুনাফা পরিশোধ করা হবে। এতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে পারবে।
অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজের মতো এ সুকুকেও রেপো সুবিধা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি এ সুকুক শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ সরকারি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে সরকারও তুলনামূলক কম সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।
যেভাবে আবেদন
বিনিয়োগকারীরা যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের হিসাবের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডিউলের (এসএসএম) মাধ্যমে নিলাম ও বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
যারা প্রথমবার সরকারি সুকুকে বিনিয়োগ করবেন, তাদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সুকুক ইনভেস্টর (এসআই) আইডি খুলতে হবে। তবে আগে সরকারি সুকুকে বিনিয়োগ করে এসআই আইডি নেওয়া থাকলে নতুন করে আইডি খোলার প্রয়োজন হবে না।
সুকুক কী
শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ডকে সাধারণত সুকুক বলা হয়। সুকুক আরবি শব্দ। এর অর্থ সিলমোহরযুক্ত এমন আইনি দলিল, যা কোনো সম্পদের ওপর অধিকার বা মালিকানার প্রমাণ বহন করে।
এটি প্রচলিত সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প। বন্ডে বিনিয়োগকারীরা সুদ পেলেও সুকুকে নির্দিষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের মালিকানার অংশের বিপরীতে ইজারা বা ওই সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের অংশ হিসেবে মুনাফা পান।
দেশে ইসলামি ব্যাংকিং সেবাদাতা ব্যাংকগুলোর একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুদারাবা (মুনাফায় অংশীদারি), মুশারাকা (লাভ-লোকসান ভাগাভাগি), মুরাবাহা (লাভে বিক্রি), ইশতিসনা (পণ্য তৈরি), করজ হাসান (উত্তম ঋণ), সালাম (অগ্রিম ক্রয়) ও ইজারা (ভাড়া) সুকুক প্রচলিত আছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০২০ সালে প্রথমবার সরকার বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক (বিজিআইএস) চালু করে। সুকুকের মাধ্যমে অর্থায়নের জন্য ২০২০ সালে ৬৮টি প্রকল্পের তালিকা তৈরি করেছিল অর্থ বিভাগ। প্রথম সুকুকটি ছিল ৮ হাজার কোটি টাকার; সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিপরীতে এটি ছাড়া হয়। এরপর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে সুকুক ছাড়ছে সরকার।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন