ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯:১৬, ৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১৭, ৫ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন। সচিবালয়ের ১নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এই দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দফতরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণী বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এ লক্ষ্যে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও দেশের সচেতন নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়মূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ আহবান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহারে উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
গ্যাস চালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করে লিকেজজনিত অপচয় রোধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে শেয়ারিং (কার-পুলিং) ব্যবস্থা গ্রহণকে উৎসাহিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত যথাসম্ভব সীমিত বা পরিহার করে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সকল সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন এবং অফিস-পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন