ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮:৫৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:০১, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ফজরের নামাজের পর সকাল ৭টার দিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে যান।

পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তাসনিম জারা, দলের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং চিফ কো-অর্ডিনেটর নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির মেম্বার সেক্রেটারি তারেক রহমানও বেগম জিয়াকে দেখতে যান।

দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তারও আগে  শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যান আইন উপদেষ্টা।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিয়মিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধান উপদেষ্টা।

আজ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও খালেদা জিয়াকে দেখতে গেছেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খান এবং যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং দলীয় বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থকও হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজ নেন।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান যে কোনো সময় দেশে ফিরতে পারেন মায়ের পাশে থাকার জন্য। খালেদা জিয়াকে সিসিইউ থেকে অপারেশন থিয়েটার এলাকায় নেয়া হয়েছে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। দেশের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা যাত্রার উপযোগী হলেই তাকে বিদেশে নেয়া হবে।’

যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না দলের নেতাকর্মীদের হাসপাতালে অযথা ভিড় না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়াকে পর্যবেক্ষণ করছেন। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

এর আগে ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। ফুসফুসের সংক্রমণজনিত জটিলতায় তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়।

তাঁর দীর্ঘদিনের আরও অনেক শারীরিক জটিলতা রয়েছে- যেমন কিডনি ও লিভারের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস এবং ডায়াবেটিস। যা চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। কারণ একটি রোগের চিকিৎসা করতে গেলে অন্যটির অবনতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন