ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ বন্ধ, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধন

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯:৫৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ বন্ধ, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বহুল আলোচিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করতে জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এ ধারার মাধ্যমে রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়া ব্যাংকের পুরনো শেয়ারধারকদের পরবর্তী সময়ে আবার শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে এ ধারা ছিল না। পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে সংসদে অনুমোদনের সময় ধারাটি যুক্ত করা হয়।

কেন বিতর্কিত ছিল ১৮(ক) ধারা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা ওই ব্যাংকের শেয়ারধারক ছিলেন, তারা পরবর্তী সময়ে আবার ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও একই সুযোগ দিতে পারত।

একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ধারাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সমালোচনার পর সরকার ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর ধারাটির শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় এটি বিলুপ্ত করা সমীচীন।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেসরকারি বিল আটকাল

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনে সংশোধনী আনতে একটি বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের অনুমতি চান।

অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও নাজিবুর রহমান তা প্রত্যাহারে রাজি হননি। পরে বিষয়টি ভোটে দেওয়া হলে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি। ফলে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল

অন্যদিকে র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পৃথক বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স সংশোধনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। প্রস্তাবিত নতুন আইনের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা বাতিল করে এসআরবি গঠনের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্যও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল’ সংসদে উত্থাপন করতে গেলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আপত্তি জানান। তিনি নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান।

এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক হলেও শেষ পর্যন্ত বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন